পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিলেও চালু হয়নি রাবির ই-কার সেবা

রাবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ০২:২১ পিএম


পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দিলেও চালু হয়নি রাবির ই-কার সেবা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: আরটিভি

ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের চলাচল সহজ করতে গত বছরের অক্টোবরে পরিবেশবান্ধব ই-কার চালুর ঘোষণা দেয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (রুয়া)। এর ধারাবাহিকতায় একই বছরের নভেম্বরের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি ই-কার চালু করা হয়। তবে চালুর কয়েক মাসের মধ্যেই নানা সমস্যার কারণে সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়। পুনরায় চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।

জানা গেছে, চালকদের লোকসান, প্রতিদিন নির্ধারিত অর্থ পরিশোধের পরও আশানুরূপ আয় না হওয়া, ভাড়া-সংক্রান্ত জটিলতা এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলতি বছরের মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে ই-কার সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া ব্যবহৃত ই-কারগুলোর যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতের সুবিধা রাজশাহীতে না থাকায় সেবাটি চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

তবে চলতি বছরের ৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে রুয়ার একটি জরুরি সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রুয়ার সভাপতি ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান পুনরায় ই-কার চালুর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে এর আগে ই-কার চালু করেছিলাম। কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সে ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। ক্যাম্পাসের রাস্তাঘাট তেমন একটা ভালো ছিল না এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কিছু ই-কার কিনে বিশ্ববিদ্যালয়কে দিয়ে দেব। আগের মতোই চলবে, তবে এর ব্যবস্থাপনায় থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

কিন্তু সেই ঘোষণার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সেবাটি চালু হয়নি। ফলে ক্যাম্পাসে চলাচলের জন্য বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ফেরদৌস বলেন, শুরু থেকেই এ সেবার মান সন্তোষজনক ছিল না। ৩০ হাজার শিক্ষার্থীর চাহিদার তুলনায় ই-কারের সংখ্যাও ছিল খুবই কম। এরপর অল্পদিনের মধ্যেই সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়। এটি উদ্যোক্তাদের লোকদেখানো কাজ ও দায়সারা মনোভাবেরই প্রমাণ। পুনরায় চালুর আশ্বাস দিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

জানতে চাইলে রুয়ার সাধারণ সম্পাদক ড. মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, আগের প্রশাসনের কাছ থেকে ই-কার চালুর অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। এটি আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করতে চাই। উপাচার্য পরিবর্তনের পর তৎকালীন উপ-উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন খান বিষয়টির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আগের উপাচার্য যেহেতু চলে গেছেন, তাই নতুন উপাচার্যের অনুমোদন নিয়ে বিষয়টি এগিয়ে নিতে হবে। কিন্তু নতুন উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের পর অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাওয়ায় এখনো তার সঙ্গে এ বিষয়ে সাক্ষাৎ করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমরা ই-কারগুলো দেখেছি এবং কোম্পানির সঙ্গেও কথা বলেছি। যেহেতু এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়কে দান করা হবে, তাই কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। এ কারণেই বিষয়টি এখনো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মো. আব্দুল আলিম বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ই-কার চালুর বিষয়ে রুয়ার সঙ্গে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। আগে কী আলোচনা হয়েছে, সেটিও আমার জানা নেই।

বাস্তবায়নে সহযোগিতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি কীভাবে পরিচালিত হবে, তা না জেনে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। আমরা নিজেদের গাড়িই ঠিকমতো পরিচালনা করতে পারি না। তাই এর ব্যয় ও সুবিধা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তারা কীভাবে এটি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করবে এবং পরিচালনার সক্ষমতা কী হবে—এসব বিষয় বিবেচনা করেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission